মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শুরুর দাবি ট্রাম্পের, টোল নেবে ইরান

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ। ফাইল ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়েছে। এসব জাহাজ ওমানের কাছাকাছি একটি নিরাপদ রুট ব্যবহার করছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘জাহাজগুলো চলতে শুরু করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে আসছে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘তারা (জাহাজ) দক্ষিণাঞ্চলের হাইওয়ে ব্যবহার করছে। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত। এছাড়াও যাতায়াতের জন্য অন্য রুটও আছে।’

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। তাঁর এই দাবির আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলেছিল, প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করা হলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, মাইন অপসারণের জন্য প্রচলিত মাইনসুইপার ও অত্যাধুনিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এ কাজ শেষ হতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চুক্তির মাধ্যমে জলপথ খোলার সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে কিছুটা দেরি হতে পারে।

এদিকে প্রণালিতে টোল আদায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাওয়া গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন আশা করছে, তেহরান এই প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপ করবে না। বিষয়টি নতুন শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করা হয়- গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কি শুধু ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত থাকবে? জবাবে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা এটি দীর্ঘমেয়াদেই টোলমুক্তভাবে খুলে দেওয়া হবে।

তবে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি বা চার্জ আরোপ করা হতে পারে।’ বাঘাই আরও বলেন, প্রণালিটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কিছু প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

‘আমাদের লক্ষ্য হলো এই জলপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পথ তৈরি করা। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন।’- সংবাদ সম্মেলনে বলেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ওমান ও ইরান কিছু পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা দেবে। এর জন্য অর্থ লাগবে এবং সে অনুযায়ী ফি থাকবে। বিষয়টা একেবারে স্পষ্ট।

ক্যাটাগরি