ইউরোপে অবৈধ প্রবেশ কমলেও ভূমধ্যসাগরের পথে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউতে প্রায় ৭৫ হাজার অনিয়মিত প্রবেশ শনাক্ত; পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রবেশ বেড়েছে ৩৪ শতাংশ
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে অনিয়মিত বা অবৈধ প্রবেশের ঘটনা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। তবে ভূমধ্যসাগরের প্রধান দুটি পথে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে শনাক্ত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বড় জাতিগোষ্ঠী হিসেবে রয়েছে।
ইউরোপের সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউর সীমান্তে প্রায় ৭৫ হাজার অনিয়মিত প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন পথে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে ২৪ হাজারের বেশি প্রবেশ
ফ্রন্টেক্সের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে ২৪ হাজার ২০০-এর বেশি অভিবাসীর ইউরোপে প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৫ শতাংশ কম।
লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপমুখী পথটি এ বছরও অভিবাসীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে রয়েছে। শুধু আগস্টেই এ পথে প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ পথে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি আফগানিস্তান ও সুদানের নাগরিকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে ১৯ হাজার ৪০০ জন
অন্যদিকে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ অভিবাসীর ইতালিতে অনিয়মিত প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৫ শতাংশ কম।
এই পথে অভিবাসীদের প্রধান যাত্রাস্থল লিবিয়া। ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পথে ইউরোপে প্রবেশকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই লিবিয়া থেকে যাত্রা করেছেন। এরপর রয়েছে আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া।
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে বাংলাদেশি, সোমালি ও আলজেরীয় নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি শনাক্ত করা হয়েছে।
পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রবেশ বেড়েছে
ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলোর মধ্যে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথ ছিল ব্যতিক্রম। এ পথে ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশ গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে।
প্রথম আট মাসে এ পথে প্রায় ১৫ হাজার ৯০০ জনের ইউরোপে প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। এ রুটে অভিবাসীদের প্রধান যাত্রাস্থল ছিল আলজেরিয়া।
ফ্রন্টেক্সের মতে, সমুদ্রপথে সীমান্ত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ার ফলে মানব পাচারকারী চক্রগুলো নতুন রুট ব্যবহারের চেষ্টা করছে। মরক্কো, পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় আলজেরিয়ার উপকূল থেকে অনিয়মিত অভিবাসীদের যাত্রা বেড়েছে।
ইংলিশ চ্যানেলেও প্রবেশ কমেছে
ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনাও কমেছে। ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ পথে প্রবেশ ৪৩ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে প্রায় ২৬ হাজার ৬০০ অভিবাসী ইংল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন।
অভিবাসন কমলেও প্রাণহানি অব্যাহত
ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা কমলেও অভিবাসীদের প্রাণহানি কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেন্স বলেন, ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশের বেশিরভাগ রুটেই অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। অভিবাসীর সংখ্যা কমে গেলেও মানব পাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় থাকে এবং নতুন সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
ফিনান্সিয়াল বার্তা/ এইচ



