স্থানীয় বীজে ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছর করছাড়

দেশি তেলবীজ চাষে উৎসাহ দিতে এবং ভোজ্যতেল শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তেলবীজ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ১০ বছর মেয়াদি আয়কর অব্যাহতির সুবিধা পাবে। গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে এ বিষয়ে ঘোষণা ছিল।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১০ বছর মেয়াদে ধাপ অনুযায়ী এই সুবিধা পাবে। প্রথম পাঁচ বছর (প্রথম থেকে পঞ্চম বছর) অর্জিত আয়ের ওপর ১০০ শতাংশ আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হবে। পরবর্তী তিন বছর (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম বছর) ৫০ শতাংশ এবং শেষ দুই বছর (নবম ও দশম বছর) ২৫ শতাংশ হারে আয়কর অব্যাহতি পাওয়া যাবে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে।
কর সুবিধা পেতে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। অবশ্যই আয়কর আইনে প্রযোজ্য বিধান মানতে হবে।
কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত হতে হবে। কাঁচামাল হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তেলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদন করতে হবে।
কর অব্যাহতির সুবিধা শুধু ভোজ্যতেল উৎপাদন থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য আয় থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনের আয়ের পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তেলবীজ ব্যবহারের তথ্য দাখিল করতে হবে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎস কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেল খাতে দেশি কাঁচামালের ব্যবহার বাড়বে, যা বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।




