ধর্ম

ওহি কী, কীভাবে নাজিল হতো? জেনে নিন এর প্রকারভেদ

মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ ও অতিপ্রাকৃতিক মাধ্যমই হলো ওহি

আরবি ‘ওহি’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো—গোপনে ও দ্রুত কোনো বার্তা পৌঁছে দেওয়া, ইঙ্গিত করা, ইশারা করা বা লিখে দেওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলা নবীদের প্রতি বিশেষ পদ্ধতিতে তাঁর নির্দেশ, শরিয়তের বিধান এবং অদৃশ্য জগতের সংবাদ যে মাধ্যমে অবতীর্ণ করতেন, তাকে ওহি বলা হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের মাধ্যমে নবুয়তের ধারা যেমন সমাপ্ত হয়েছে, তেমনি ওহির ধারাও চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই তাঁর পরে আর কোনো ব্যক্তি ওহি প্রাপ্তির দাবি করতে পারেন না।

ওহি কত প্রকার?

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ওহি প্রধানত দুই প্রকার—

১. ওহিয়ে জলি (প্রত্যক্ষ ওহি)

এটি হলো পবিত্র আল-কোরআন। এর ভাষা ও অর্থ—উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নাজিল হয়েছে।

২. ওহিয়ে খফি (পরোক্ষ ওহি)

এটি হলো সুন্নাহ বা হাদিস। এর মূল বক্তব্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আসত, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা নিজের ভাষা, কর্ম বা নীরব সম্মতির মাধ্যমে উম্মতের কাছে পৌঁছে দিতেন।

ওহি নাজিলের পদ্ধতি

কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে নবীদের ওপর বিভিন্নভাবে ওহি নাজিল হতো। প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো—

ক. সত্য স্বপ্ন (স্বপ্নাদেশ)

নবুয়তের সূচনালগ্নে রাসুলুল্লাহ (সা.) সত্য স্বপ্ন দেখতেন। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন, তা ভোরের আলোর মতোই বাস্তবে প্রতিফলিত হতো। এটিই ছিল ওহির প্রথম ধাপ।

খ. অন্তরে বার্তা প্রক্ষেপণ (ইলহাম)

কখনো ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) দৃশ্যমান না হয়ে সরাসরি নবীর অন্তরে আল্লাহর নির্দেশ বা বার্তা পৌঁছে দিতেন।

গ. পর্দার আড়াল থেকে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা

কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই পর্দার আড়াল থেকে নবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় নবী আল্লাহকে দেখতেন না। হজরত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছিল।

ঘ. ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে

এটি ছিল সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। জিবরাইল (আ.) আল্লাহর বার্তা নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আসতেন। এটি আবার দুইভাবে ঘটত—

১. মানুষের রূপে:
জিবরাইল (আ.) মানুষের আকৃতিতে উপস্থিত হতেন। অধিকাংশ সময় তিনি সাহাবি দাহিয়াতুল কালবি (রা.)-এর আকৃতিতে এসে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন। এটি ছিল ওহি গ্রহণের তুলনামূলক সহজ পদ্ধতি।

২. নিজস্ব ফেরেশতার রূপে:
রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনে মাত্র দুইবার জিবরাইল (আ.)-কে তাঁর আসল সৃষ্টিগত রূপে দেখেছিলেন। এ ঘটনার উল্লেখ পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাজমে রয়েছে।

ইসলামে ওহির গুরুত্ব

ওহি হলো ইসলামী শরিয়তের মূল ভিত্তি। পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ—উভয়ই ওহির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই মুসলমানদের আকিদা, ইবাদত, নৈতিকতা ও জীবনব্যবস্থার প্রধান উৎস হচ্ছে আল্লাহর নাজিলকৃত ওহি।

ক্যাটাগরি