ব্যাংকের পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ফাইন্যান্স কোম্পানি) খাতের খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে আদায় না হওয়া ‘মন্দ’ ও ‘চরম খেলাপি’ ঋণ নিষ্পত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধা চালু করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত ‘অনাদায়ি ঋণ আদায় বা সমন্বয়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালা’ জারি করে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, খেলাপি গ্রাহক এককালীন পুরো মূল ঋণ পরিশোধ করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় ঋণের ওপর জমে থাকা সুদ আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফ করা যাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই মূল ঋণ মওকুফ করা হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার জন্য ঋণ পরিশোধ সহজ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আটকে থাকা অর্থ দ্রুত আদায় এবং তারল্য সংকট কমানোরও সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সব খেলাপি গ্রাহক এ সুবিধা পাবেন না। ঋণের অর্থ পাচার, জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ নেওয়া গ্রাহকরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পুনঃতফসিল হওয়া মন্দ ঋণও এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। তবে প্রান্তিক কৃষকদের স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
নতুন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর আওতায় জারি হওয়া এই নীতিমালা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ উদ্যোগে যোগ্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ সুবিধার বিষয়ে জানাবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা কার্যকর থাকবে।

