তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না; বরং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়। এজন্য সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য, তেমনি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। তাই গণমাধ্যমকে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এবং ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে গণমাধ্যম শিল্পের আর্থিক ভিত্তিও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের জন্য ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যম শিল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে বর্তমান মিডিয়া ইকোসিস্টেম আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় সময়োপযোগী নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত করা দরকার, যাতে সব অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়। সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর।
সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যম খাতেও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এফ বার্তা /এইচ

