মাথাব্যথা হলে অনেকেই ওষুধের পরিবর্তে এক কাপ চা বা কফি পান করেন। কারও ক্ষেত্রে এতে সাময়িক স্বস্তিও মেলে। এর অন্যতম কারণ চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন, যা কিছু ধরনের মাথাব্যথা, বিশেষ করে মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে, উপকারী হতে পারে।
ক্যাফেইন মস্তিষ্কের রক্তনালির ওপর প্রভাব ফেলে এবং কিছু ব্যথানাশক ওষুধের কার্যকারিতাও বাড়াতে পারে। ফলে মাথাব্যথা শুরু হওয়ার পর পরিমিত পরিমাণে চা বা কফি পান করলে কিছু মানুষের ব্যথা কমে আরাম পাওয়া সম্ভব।
চায়ে ক্যাফেইনের পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অন্যদিকে কফির ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়াতে পারে। ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাবের সঙ্গে মাথাব্যথা থাকলে কফি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে উল্টো মাথাব্যথা বেড়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, উদ্বেগ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি চা-কফি পান করার পর হঠাৎ ক্যাফেইন কমিয়ে দিলেও মাথাব্যথা ও ক্লান্তির মতো প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তাই মাথাব্যথা হলেই অতিরিক্ত চা-কফির ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, সময়মতো খাবার খাওয়া এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
বারবার মাথাব্যথা হলে বা হঠাৎ খুব তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে চোখে ঝাপসা দেখা, দুর্বলতা, বমি বা অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

