ইসলাম মানুষকে হালাল ও বৈধ পথে জীবিকা উপার্জনের নির্দেশ দিয়েছে। শ্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, চাকরি কিংবা অন্য কোনো বৈধ পেশার মাধ্যমে অর্জিত রিজিক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ইসলাম এমন কিছু পেশা ও কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ করেছে, যেগুলো মানুষের নৈতিকতা, ঈমান ও সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষতি করে।
কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন। অতএব, তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করো।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৫)
ইসলামী দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ পাঁচ ধরনের পেশা ও উপার্জন হলো—
১. সুদের কারবার
সুদ ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫) শুধু সুদ গ্রহণ নয়, সুদি লেনদেনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা, লিখন ও সাক্ষ্যদান থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, লেখক ও সাক্ষীদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।
২. মদ ও মাদকদ্রব্যের ব্যবসা
মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য মানুষের স্বাস্থ্য, বিবেক, পরিবার ও সামাজিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ইসলাম শুধু মদ পান নিষিদ্ধ করেনি; এর উৎপাদন, বিক্রি, বহন, পরিবেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাকেও নিষিদ্ধ করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ১২৯৫)
৩. পতিতাবৃত্তি ও ব্যভিচার
ইসলাম পরিবার, বংশপরিচয় ও মানুষের মর্যাদা রক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩২) তাই যৌনতার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন, পতিতাবৃত্তি পরিচালনা কিংবা এতে সহযোগিতা করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
৪. অশ্লীলতানির্ভর বিনোদন
নগ্নতা, যৌন আবেদনময় নৃত্য, অশ্লীল অভিনয় কিংবা মানুষকে ব্যভিচারের দিকে উৎসাহিত করে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে উপার্জন ইসলামী নৈতিকতার পরিপন্থী। ইসলাম অশ্লীলতার পাশাপাশি এর দিকে নিয়ে যায় এমন পথ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
৫. প্রাণীর মূর্তি নির্মাণ
প্রাণীর আকৃতির ত্রিমাত্রিক মূর্তি নির্মাণের বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কতা রয়েছে। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে প্রতিকৃতি নির্মাণকারীর ব্যাপারে শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আধুনিক আলোকচিত্র, ডিজিটাল ছবি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক চিত্রের বিধান নিয়ে আলেমদের মধ্যে পৃথক আলোচনা রয়েছে। তাই সব ধরনের ছবি বা চিত্রকর্মকে একই বিধানের আওতায় ফেলা ঠিক নয়।
ইসলাম হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি হালাল জীবিকার অসংখ্য পথও উন্মুক্ত করেছে। ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, কারিগরি কাজসহ বৈধ নানা পেশার মাধ্যমে সম্মানজনকভাবে জীবিকা অর্জন করা সম্ভব। তাই সাময়িক লাভের জন্য হারাম পেশা বেছে না নিয়ে হালাল ও পবিত্র উপার্জনের পথ অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের কর্তব্য।
ফিনান্সিয়াল বার্তা/এইচ

