নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
দুর্যোগে প্রতিবেশী চীনের তিব্বত অঞ্চলেও অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৭, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকও রয়েছেন।
বন্যায় রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাদায় নেমে নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি হেলিকপ্টারে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা হচ্ছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় তাঁবু, খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে ৫ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। পরিস্থিতি তদারক করতে বৃহস্পতিবার তিব্বতে পৌঁছেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।

এদিকে বন্যার পানি গণ্ডক নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে আকস্মিক বন্যার কারণ মনে করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, কম্পনটি সম্ভবত হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে সৃষ্ট। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, বরফ ও পাথরের বিশাল ভূমিধস লেহেন্দে নদীতে বিপুল ধ্বংসাবশেষসহ পানির স্রোত তৈরি করে। এতে নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি, গাছপালা ও যানবাহন কাদায় চাপা পড়ে এবং সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়।
দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে, বন্যায় সৃষ্ট একটি হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। হ্রদটি ভেঙে গেলে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ

