শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এক বছর আগে এই ঘাটতি ছিল ৩০৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তহবিলের ঘাটতি বেড়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানির আর্থিক চিত্রে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে জীবন রাজস্ব হিসাবেও ঘাটতি রয়েছে। এ সময়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে আগের বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে জীবন রাজস্বের ঘাটতি কমেছে ৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
তবে রাজস্বের ঘাটতি কমলেও কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলের নেতিবাচক স্থিতি আরও বেড়েছে। আর এ কারণেই গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শতকোটি টাকার বিমা দাবি আটকে থাকার কথাও উঠে এসেছে।
জীবন বিমা তহবিল মূলত পলিসি গ্রাহকদের ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক ভিত্তি। তাই এ তহবিলে বড় ধরনের ঘাটতি থাকলে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এর আগে ২০২৫ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও পদ্মা ইসলামী লাইফের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ফলে নতুন করে তহবিল ঘাটতি বাড়ার তথ্য কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে ২০২১ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি পদ্মা ইসলামী লাইফ। দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ না দেওয়া এবং জীবন বিমা তহবিলের ঘাটতি—দুই দিক থেকেই কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

