সকালে ঘুম থেকে উঠে কিশমিশ খাওয়া কিংবা কিশমিশ ভেজানো পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে ঘরোয়া এই অভ্যাসটি আরও জনপ্রিয় হয়েছে। কিশমিশে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও কিছুটা উপকারী হতে পারে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক

কিশমিশে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। ফলে পরোক্ষভাবে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে

কিশমিশে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও কিছু বি-ভিটামিন রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় পরিমিত কিশমিশ রাখা চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে চুল পড়া বা খুশকির নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে কিশমিশ ভেজানো পানির কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়।

বয়সের ছাপ কমাতে পরোক্ষ ভূমিকা

বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, মলিনতা ও দাগ দেখা দিতে পারে। কিশমিশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। এ কারণে এটি ত্বকের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

ত্বকের সমস্যার চিকিৎসা নয়

কিশমিশে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করলেও ব্রণ, র‍্যাশ বা হরমোনজনিত ত্বকের সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে কিশমিশ ভেজানো পানির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বক ও চুল ভালো রাখতে শুধু একটি খাবার বা পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম ও পরিচর্যার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন চুল পড়া, খুশকি, ব্রণ বা ত্বকের অন্য কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।