অনলাইনের অদৃশ্য জগতে পাতা হচ্ছে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ। ল্যাপটপ-মোবাইলের আড়ালে সক্রিয় সংঘবদ্ধ স্ক্যামিং চক্র, টার্গেট সাধারণ মানুষ। প্রলোভন আর কৌশলের জালে আটকে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে।

চট্টগ্রামের খুলশীতে একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ভবনটি থেকে ৫৭টি ল্যাপটপ, ১৩৪টি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাবসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য। দেশি-বিদেশি সহযোগীদের সহায়তায় তাঁরা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন জুয়া ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অভিযান শুরু করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে অভিযান শেষ হয়।

যে দেশের কতজন

পুলিশ জানায়, আটক ৬৩ জনের মধ্যে ৫ জন চীনের, ৩৫ জন লাওসের, ২১ জন পাকিস্তানের, একজন নেপালের এবং একজন ভিয়েতনামের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ২০ জন নারী।

তবে আটক ব্যক্তিদের কারও পাসপোর্ট উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে তাঁরা কখন ও কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের কাছে আটক ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁদের পাসপোর্ট একজন বাংলাদেশির কাছে জমা রয়েছে। ওই ব্যক্তি এবং ভবনটি ভাড়া নিতে সহযোগিতা করা স্থানীয় ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও বিভিন্ন সাইবার অপরাধে জড়িত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি সহযোগীদেরও যোগাযোগ রয়েছে। এসব সহযোগীর কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের ভাষ্য, খুলশীর ওই ভবনে অবস্থান করে চক্রটি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এ ছাড়া আইনানুগ কর্তৃত্বের বাইরে ইলেকট্রনিক লেনদেনের মাধ্যমেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগেও বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চীনের এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক।

ওই অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরপর এমন অভিযানে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা এবং বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় দেশে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ