প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা।
দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।
শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানান, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও নার্স নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কারা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। প্রার্থীর বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৪০ বছর।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ জন নার্স এবং বাকি ২ হাজার ৫০০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকবেন। প্রতি ব্যাচে ৫০ থেকে ১০০ জন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা?
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন।
বর্তমানে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক। বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, যার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।
উপজেলা পর্যায়েও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো চালু ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণে কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট কমাতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে
গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণসহ এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়।
এর আগে ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত দেন।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক ডায়ালাইসিস সেবার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার কিডনি রোগীরাও নিজ নিজ জেলা ও পরবর্তী সময়ে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

