কোনো মুসলিম পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রীদের মধ্যে সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে—এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রী একজন হোক বা একাধিক, তাঁদের সম্মিলিত অংশ নির্ধারিত হয় মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকা না থাকার ওপর।

মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তাঁর এক বা একাধিক স্ত্রী মিলে মোট সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পাবেন। স্ত্রী একজন হলে তিনি পুরো এক-অষ্টমাংশ পাবেন। আর একাধিক স্ত্রী থাকলে ওই এক-অষ্টমাংশ তাঁদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে।

অন্যদিকে, মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকলে এক বা একাধিক স্ত্রী মিলে মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পাবেন। একাধিক স্ত্রী থাকলে এই এক-চতুর্থাংশও তাঁদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।

অর্থাৎ, স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকলেই স্ত্রীদের সম্মিলিত উত্তরাধিকার অংশ বাড়ে না। সন্তান থাকলে তাঁদের সম্মিলিত অংশ ১/৮ এবং সন্তান না থাকলে ১/৪—এরপর নির্ধারিত অংশ স্ত্রীদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়।

সন্তানদের অংশ কীভাবে নির্ধারিত হয়?

স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির অন্যান্য বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে প্রযোজ্য মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বণ্টিত হয়। সন্তান থাকলে ছেলে ও মেয়ের অংশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে একই স্তরের একজন ছেলে একজন মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পান।

তবে উত্তরাধিকার নির্ধারণে শুধু স্ত্রী ও সন্তানের সংখ্যা দেখলেই হয় না। মৃত ব্যক্তির বাবা-মা, সন্তান এবং অন্যান্য জীবিত উত্তরাধিকারী কারা—তার ওপরও প্রত্যেকের অংশ নির্ভর করতে পারে।

একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে কী গুরুত্বপূর্ণ?

মুসলিম আইনে একজন পুরুষ একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখতে পারেন। বৈধ বিবাহের মাধ্যমে যেসব স্ত্রী উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার অর্জন করেন, তাঁদের সম্মিলিত অংশই ১/৮ বা ১/৪ হিসেবে নির্ধারিত হবে।

তবে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয় না। তিনি নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তি জীবদ্দশায় বিক্রি, হেবা বা দান করতে পারেন। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তিই উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টনের আওতায় আসে।

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী কি সম্পত্তি পাবেন?

তালাক কার্যকর হওয়ার পর সাবেক স্ত্রী সাধারণত স্বামীর উত্তরাধিকারী হন না। তবে দেনমোহর ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইদ্দতকালীন ভরণপোষণের অধিকার থাকতে পারে।

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ঘরে মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে সেই সন্তান বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। মায়ের সঙ্গে বাবার বিবাহবিচ্ছেদ সন্তানের উত্তরাধিকার অধিকার নষ্ট করে না।

হিন্দু আইনে নিয়ম আলাদা

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন মুসলিম আইনের মতো নয়। হিন্দু উত্তরাধিকার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে দায়ভাগ (Dayabhaga) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

হিন্দু পুরুষের একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে পরবর্তী স্ত্রীর বৈধতা ও উত্তরাধিকার অধিকার নিয়ে আলাদা আইনি বিধান ও ব্যাখ্যা প্রযোজ্য। আইনজীবী উজ্জল ভৌমিকের মতে, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পরবর্তী বিয়ের বৈধতা না থাকলে সেই স্ত্রী স্বামীর আইনগত স্ত্রী হিসেবে উত্তরাধিকার দাবি করতে পারেন না।

ফলে একাধিক স্ত্রী বা একাধিক বিবাহের কোনো ঘটনায় সম্পত্তি বণ্টনের আগে বিবাহের বৈধতা, মৃত্যুর সময় জীবিত উত্তরাধিকারী, সম্পত্তির ধরন এবং প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন যাচাই করা জরুরি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা