ওয়ালটনের ২০তম এজিএমে ১৯০% লভ্যাংশ অনুমোদন

শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন, পুনর্নিয়োগ এবং কোম্পানির নিরীক্ষক ও করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে জোহরা বিবির নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজার সঙ্গে লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়ও অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশলের মাধ্যমে কোম্পানি ভালো আর্থিক ফল অর্জন করতে পেরেছে। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ এ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের পাশাপাশি আর্থিক সূচকের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পের বিকাশে ওয়ালটন কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে নিজস্ব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৈদ্যুতিক যানবাহন, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্যে ব্যবহারের জন্য ব্যাটারি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংরক্ষণেও এসব ব্যাটারি ব্যবহার করা যাবে।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে মাহবুবুল আলম জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে এ সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কোম্পানির নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদার বড় অংশ পূরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।
আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়ালটন ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিই, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জন করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৬৪টি দেশে পণ্য রপ্তানি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে ব্র্যান্ডটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে ওয়ালটনের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছে কোম্পানি।
সভা পরিচালনা করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম। এতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন।



