মরিশাসে কাচের ভারী বাক্স চাপা পড়ে ৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

নিহত শ্রমিকেরা হলেন মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) ও সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মরিশাসের উত্তরাঞ্চলের প্লেইন-দে-পাপাইয়েস এলাকার মসজিদ রোডে একটি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ডেফি মিডিয়া’ ও ‘ল্য মরিসিয়েন’ এ তথ্য জানিয়েছে।
‘ল্য ডেফি মিডিয়া’র প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একটি কনটেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি বাক্স সরানোর কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত ভারী বাক্সটি তাঁদের ওপর পড়ে যায়। এতে তিন শ্রমিকই চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ‘ল্য মরিসিয়েন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাক্সটিতে ৪১টি কাচের পাত ছিল। প্রতিটি কাচের পাতের আকার ছিল ৬ ফুট বাই ৮ ফুট। কনটেইনার থেকে বাক্সটি বের করার সময় হঠাৎ সেটি উল্টে শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এতে কাচের পাত ও বাক্সের নিচে চাপা পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে প্লেইন-দে-পাপাইয়েস পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে মরিশাস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তাঁদের সহায়তায় তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ভারী কাচের বাক্সটি উল্টে শ্রমিকদের ওপর পড়ল এবং দুর্ঘটনার পেছনে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তদন্তের কথা রয়েছে। কর্মস্থলে নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও তদারকি ছিল কি না, এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে।
তদন্তে নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করা হতে পারে।
এদিকে নিহত তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।



