বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে তারেক-এর্দোয়ান বৈঠক

নিউইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে তুর্কি হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত দুই নেতা বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
নিউইয়র্কের ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজার তুর্কি হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়েও তারা একমত হন।
তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এরদোয়ান ও তারেক রহমানের বৈঠকটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমেরও সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে।
এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালেহের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাতে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্ক সফরে তিনি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।



