বিশ্ববাজারে ওয়ালটনের মতো বাংলাদেশি ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রদূতের আহ্বান

বিশ্ববাজারে ওয়ালটনের মতো বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, হাই-টেক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে ওয়ালটন একদিকে দেশের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে, অন্যদিকে রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পাঁচ তারকা হোটেল দ্য সোলটিতে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের শীর্ষ বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজার বিশেষ অনুষ্ঠান ‘তুষার যাত্রা’তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, ওয়ালটন বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পখাতে চমৎকার কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত প্রযুক্তিপণ্যের গুণগতমান উন্নত এবং এসব পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, দেশে উন্নতমানের হাই-টেক পণ্য উৎপাদনের ফলে আমদানিনির্ভরতা কমছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে ওয়ালটন। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে এসব ব্র্যান্ডের বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, নেপাল ওয়ালটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। বাংলাদেশের মতো নেপালের গ্রাহকদের কাছেও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিপণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে নেপালের বাজারে ওয়ালটনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। ওয়ালটন শুধু বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হিসেবে নয়, বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়।
নিজস্ব গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের মাধ্যমে ওয়ালটন সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
থাপা বিজনেস গ্রুপের পরিচালক প্রনিমেশ থাপা বলেন, আট বছরেরও বেশি সময় ধরে নেপালে ওয়ালটনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তারা গর্বিত। উদ্ভাবনী ও মানসম্পন্ন পণ্যের মাধ্যমে নেপালজুড়ে ওয়ালটনের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করতে থাপা বিজনেস গ্রুপ কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. রায়হান আধুনিক বিপণন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মফিজুর রহমান জাকির এবং ওয়ালটন প্লাজার হেড অব সেলস এম এম নাজমুল হাসান।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম, থাপা বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রনীল থাপা, পরিচালক প্রনিমেশ থাপাসহ ওয়ালটনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চিত্রনায়ক আমিন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নেপাল ট্যুর ভিডিও প্রদর্শন, র্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।



