তথ্যপ্রযুক্তি

আইফোন-অ্যান্ড্রয়েডে স্প্যাম কল বন্ধ করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

অপরিচিত নম্বর থেকে বারবার ফোন, প্রতারণামূলক অফার কিংবা সন্দেহজনক কলের কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ফোন ধরতেও দ্বিধায় পড়তে হয়। স্প্যামাররা নিয়মিত নতুন নতুন নম্বর ব্যবহার করায় প্রতিটি নম্বর আলাদাভাবে ব্লক করাও কার্যকর সমাধান নয়। তবে আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিল্ট-ইন সুবিধা ব্যবহার করেই স্প্যাম কল শনাক্ত, সাইলেন্ট ও ফিল্টার করা যায়।

এ জন্য সব সময় আলাদা কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা সাবস্ক্রিপশনের প্রয়োজন হয় না। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও ডায়ালার অ্যাপে থাকা ফিচার ব্যবহার করেই সন্দেহজনক কল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আইফোনে স্প্যাম কল বন্ধ করবেন যেভাবে

আইফোনে প্রথমে সেটিংস থেকে অ্যাপস মেনুতে গিয়ে ফোন অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর কল ফিল্টারিং অংশে গিয়ে স্প্যাম অপশন চালু করলে ক্যারিয়ার যেসব কলকে সম্ভাব্য স্প্যাম হিসেবে শনাক্ত করবে, সেগুলো সরাসরি ফোনে রিং করবে না।

এ ধরনের কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভয়েসমেইলে চলে যাবে এবং ফোন অ্যাপের কলস অংশের স্প্যাম তালিকায় দেখা যাবে।

একই জায়গা থেকে আননোন কলারস অপশন চালু করলে ফোনে সংরক্ষিত নয় এমন নম্বরের সাম্প্রতিক কল আলাদা তালিকায় রাখা যাবে। অপরিচিত কোনো নম্বরকে পরিচিত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়োজন হলে মার্ক অ্যাজ নোন সুবিধাও ব্যবহার করা যায়।

অপরিচিত কলের কারণ জেনে নেওয়ার সুবিধা

আইফোনের স্ক্রিন আননোন কলারস অপশনে সাধারণত নেভার, সাইলেন্স ও আস্ক রিজন ফর কলিং—এই তিনটি সুবিধা থাকে।

সাইলেন্স নির্বাচন করলে ফোনে সংরক্ষিত নেই এমন নম্বরের কল সরাসরি ভয়েসমেইলে চলে যাবে। তবে এর ফলে চিকিৎসক, অফিস বা জরুরি কোনো প্রতিষ্ঠানের নম্বর কনট্যাক্টে সেভ না থাকলে সেই কলও নীরব হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে আস্ক রিজন ফর কলিং চালু করলে অপরিচিত কলারকে ফোন করার কারণ জানাতে বলা হবে। কলার যে উত্তর দেবেন, তার লাইভ ট্রান্সক্রিপ্ট দেখে ব্যবহারকারী কলটি গ্রহণ করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই সুবিধা আইওএস ২৬ বা পরবর্তী সংস্করণে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশে পাওয়া যায়।

অ্যান্ড্রয়েডে স্প্যাম কল শনাক্ত করবেন যেভাবে

গুগলের ফোন অ্যাপ ব্যবহার করা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথমে অ্যাপটি খুলে মেনুতে যেতে হবে। এরপর সেটিংস থেকে কল অ্যাসিস্ট এবং কলার আইডি অ্যান্ড স্প্যাম অপশন নির্বাচন করতে হবে।

এখানে সি কলার অ্যান্ড স্প্যাম আইডি চালু করলে সম্ভাব্য স্প্যাম কল আসার সময় সতর্কবার্তা দেখা যাবে। আর ফিল্টার স্প্যাম কলস চালু করলে সন্দেহজনক স্প্যাম কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইলেন্ট হয়ে যাবে।

এসব সুবিধা ব্যবহারের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ৬ বা পরবর্তী সংস্করণ, হালনাগাদ গুগল ফোন অ্যাপ এবং সেটিকে ডিফল্ট ফোন অ্যাপ হিসেবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

কল স্ক্রিনিং সুবিধাও কাজে লাগাতে পারেন

গুগল পিক্সেল ৬ বা পরবর্তী মডেলে কল স্ক্রিন সুবিধা ব্যবহার করা যায়। ফোন অ্যাপের সেটিংস থেকে স্প্যাম অ্যান্ড কল স্ক্রিন অংশে গিয়ে এই ফিচার চালু করা সম্ভব।

কিছু স্যামসাং ফোনেও একই ধরনের কল স্ক্রিনিং সুবিধা রয়েছে। তবে ফোনের মডেল, অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ এবং ডায়ালার অ্যাপের ওপর ভিত্তি করে ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে।

স্প্যাম কলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কল যেন ভুল করে ব্লক বা সাইলেন্ট না হয়, সে জন্য চিকিৎসক, অফিস, ব্যাংকসহ প্রয়োজনীয় নম্বরগুলো আগে থেকেই কনট্যাক্টে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

 

ক্যাটাগরি