আফগানিস্তানে ৬.২ মাত্রার ভূকম্পন, আতঙ্ক ছড়াল প্রতিবেশী দেশগুলোতে

আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্যাঞ্চলে শনিবার সন্ধ্যায় রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কম্পন পাকিস্তান, ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় ভূগর্ভের প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। গভীর উৎপত্তিস্থলের কারণে কম্পনটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও ভূপৃষ্ঠে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তুলনামূলক কম ছিল। এর কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের কালাফগান শহর থেকে প্রায় ৮১ কিলোমিটার দূরে।
এই ভূমিকম্পের কম্পন আফগানিস্তানের পাশাপাশি পাকিস্তান, ভারত, চীন, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের কিছু এলাকাতেও অনুভূত হয়। পাকিস্তানের সোয়াতসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আফটারশকের আশঙ্কায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পকে শক্তিশালী হিসেবে ধরা হয় এবং দুর্বল অবকাঠামোর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারত ও পাকিস্তানেও একাধিক ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতের হিমাচল প্রদেশে ৩.২ মাত্রার একটি অগভীর ভূমিকম্প আঘাত হানে। অন্যদিকে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্যমতে, পাকিস্তানে একই সময়ে চারটি ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫.৫। এটি বেলুচিস্তান অঞ্চলে ৪০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে।
এদিকে গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।




