ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়: বাংলাদেশের জয়ের নেপথ্যে যে ৫ ক্রিকেটার

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়ের পেছনে ব্যাট-বল হাতে কয়েকজন ক্রিকেটারের অসাধারণ পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
হাসান মাহমুদ: শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা
বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও ১৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে নেন আরও ৩ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফর্মার হন হাসান।
তানজিদ হাসান তামিম: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
কঠিন কন্ডিশনে ওপেন করতে নেমে অসাধারণ ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম। ১৯৭ বল মোকাবিলা করে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। তানজিদের শতকের ওপর ভর করেই বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয় টাইগাররা।
মেহেদী হাসান মিরাজ: ব্যাটে-বলে ম্যাচ ঘোরানো পারফরম্যান্স
প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান মিরাজ। ৩৩.১ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। তার শিকার হন স্টিভেন স্মিথ, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরির পর অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মিরাজের স্পিনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থামে তাদের ইনিংস।
নাজমুল হোসেন শান্ত: গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৮৪
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা। তানজিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের লিডকে বড় করতে ভূমিকা রাখেন শান্ত।
মুমিনুল-সাদমান: শেষ কাজটা করেছেন দুজন
জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই তানজিদকে হারায় বাংলাদেশ। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। মুমিনুল অপরাজিত ৩০ এবং সাদমান অপরাজিত ২৫ রান করে দলকে ৯ উইকেটের জয় এনে দেন।
ডারউইনের জয় তাই কোনো একক ক্রিকেটারের কৃতিত্ব নয়। হাসানের ৯ উইকেট, তানজিদের সেঞ্চুরি, মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, শান্তর ৮৪ এবং শেষ দিকে মুমিনুল-সাদমানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং—সব মিলিয়েই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের গল্প তৈরি হয়েছে।




