দুই গোলে পিছিয়েও আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ১৫ মিনিটে তিন গোল করে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই চমক দেখায় মিশর। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার বাড়ানো বলে ইয়াসির ইব্রাহিমের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২১তম মিনিটে তাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় তারা। তবে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পট-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।
এরপরও একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শোবেইরের দুর্দান্ত সেভ এবং মিশরের সংগঠিত রক্ষণভাগ প্রথমার্ধে তাদের হতাশই রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। তবে মিশর নিজেদের রক্ষণ আরও শক্ত করে তোলে। এক পর্যায়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকো বল জালে জড়ালেও আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই আরেকটি সফল আক্রমণে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয় মিশর। ৬৭তম মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বড় চমকের ইঙ্গিত দেয় তারা।
তবে সেখান থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বল স্পর্শ করলেও তা জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।
মাত্র পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ৮৪তম মিনিটে মেসির জোরালো শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ক্রসবারের নিচে আঘাত করে জালে ঢুকে যায়। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার অষ্টম গোল। পাশাপাশি টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে ম্যাচের নিষ্পত্তি। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো বলে এনজো ফার্নান্দেজের দারুণ হেডে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। রোমাঞ্চকর এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।




