অর্থনীতি

দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬.৬ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি

দুই বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি ডলারে। অর্থাৎ দুই বছরে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার।

একই সময়ে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ১ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১৫৩ কোটি ডলারে উঠেছে। এ হিসাবে বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৬৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ ও তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত আমদানি চাহিদা রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতির উন্নতির কারণেই রিজার্ভ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৪৩ কোটি ডলার এবং বিপিএম৬ হিসাবে ছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার। চলতি বছরের জুনের শেষে গ্রস রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৮ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ওই সময় বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৯৩ কোটি ডলার। তবে আমদানি বিল পরিশোধ ও বিভিন্ন বৈদেশিক দায় মেটানোর কারণে সময়ে সময়ে রিজার্ভে ওঠানামা হয়েছে।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রিজার্ভ বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসার জন্য ইতিবাচক। শক্তিশালী রিজার্ভ আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতার বিষয়ে আস্থা বাড়ায়।

তিনি বলেন, রিজার্ভ বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্যও ইতিবাচক সংকেত। এতে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন দায় পরিশোধে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ কমার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।

তবে রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ও বৈদেশিক দায় পরিশোধে সতর্ক ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ

ক্যাটাগরি