জাতীয়

পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি- সংগৃহীত

পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরাও দেশে ফেরেন।

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পাঁচ দিনের সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতা, জাতিসংঘ কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন তিনি।

জাতিসংঘে বাংলায় প্রথম ভাষণ

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলায় বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন

সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় গুরুত্ব পায়। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

জলবায়ু ও স্বাস্থ্য ইস্যুতেও আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেন। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন অর্থায়ন এবং জলবায়ুবান্ধব প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যার ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে ‘স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্যসেবা খাতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।

একাধিক দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক

পাঁচ দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এর মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠক উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

সফরকালে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও হয়। বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ চুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাঁচ দিনের ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে শনিবার নিউইয়র্ক ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। দুবাই হয়ে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার যুক্তরাষ্ট্র সফর।

ফিনান্সিয়াল বার্তা/ এইচ

ক্যাটাগরি