মেসিময় রাতে বিনিনকে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্যুতিময় অধ্যায়ের ইতি

বিদায়ের গল্পটা এর চেয়ে আর সুন্দর হতে পারত না। ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্টালে লাখো দর্শকের আবেগঘন পরিবেশের মাঝে বেনিনকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে নামা ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা দলের তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখে নিজের বিদায়ী মুহূর্তকে চিরস্মরণীয় করে রাখলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই রাজত্ব করে খেলতে থাকে স্বাগতিক আলবিসেলেস্তারা। খেলার ১০ম মিনিটে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়; মেসির আইকনিক ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানিয়ে ম্যাচ রেফারি এক মিনিটের জন্য খেলা স্থগিত রাখেন। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে গ্যালারিতে আতশবাজি ও করতালি দিয়ে প্রিয় অধিনায়ককে অভিবাদন জানানো হয়।
প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ সমতায়।
বিরতির পর মাঠে ফিরেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
৪৮তম মিনিট: মেসির মাপা কর্নার কিক থেকে চমৎকার ভলিতে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ৬৮তম অ্যাসিস্ট।
৬১তম মিনিট: ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাড়ানো পাসে চোখধাঁধানো এক বাঁকানো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন নিকো পাস।
৭০তম মিনিট: দুই অ্যাসিস্টের পর সমর্থকদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি নিজেই। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ার পর স্পট কিকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ৩-০ গোলের জয় সুনিশ্চিত করেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সমাপ্তি টানলেন ৮ বারের ব্যালনের ডি’অর বিজয়ী এই কিংবদন্তি। জয়ের বাঁশি বাজার পর সতীর্থদের বুকে জড়িয়ে এবং সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়েন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই নায়ক।
ফিনান্সিয়াল বার্তা/বি



