বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলাধুলা

রেকর্ডের রাতে এমবাপে, মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস ফরাসি তারকার

জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে। ছবি: এএফপি

প্রথমার্ধে আক্রমণে ছড়ি ঘুরিয়েছে সেনেগাল। দুটি সহজ সুযোগও হাতছাড়া করেছে দলটি। অন্যদিকে ফ্রান্সকে তেমন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় দিদিয়ের দেশমের দল। এর ফলও পেয়ে যায় ফ্রান্স। নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে আই গ্রুপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ফরাসিরা।

ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাতে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন এমবাপ্পে। ফরাসিদের অন্য গোলটি ব্র্যাডলি বারকোলার। অন্যদিকে সেনেগালের হয়ে একটি গোল শোধ দিয়েছেন ইব্রাহিম এমবায়ে।

আলোচিত এ ম্যাচের আগে ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছিল ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের স্মৃতি। কোরিয়া ও জাপানের যৌথ আয়োজনের সেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া সেনেগাল। তবে দুই যুগ পর সেই স্মৃতির পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি সেনেগাল। উল্টো এমবাপ্পের ঝলকে হেরে গেছে পাপে থিয়াওয়ের শিষ্যরা।

অন্যদিকে এমবাপ্পে-ডেম্বেলে-দুয়ে-ওলিসেদের নিয়ে তারকায় ঠাসা ফ্রান্সের আক্রমণভাগ প্রথমার্ধে অনেকটা কাগুজে বাঘ হয়েই ছিল। এজন্য কৃতিত্ব পেতে পারে সেনেগালের জমাট রক্ষণ। অবশ্য দেশমের শিষ্যরা চেষ্টার কমতি রাখেননি। কিন্তু কোনোভাবেই সেনেগাল রক্ষণ ভেদ করে গোলপোস্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি ফ্রান্স।

বিপরীতে সুযোগ পেলেই প্রতিআক্রমণে উঠেছে সেনেগাল। ২৫ মিনিটে তেমনি একটি প্রতিআক্রমণে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল পাপে থিয়াওয়ের শিষ্যরা। বাঁপ্রান্ত থেকে বাড়ানো মালিক দিওফের অসাধারণ একটি থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন নিকোলাস জ্যাকসন। সামনে শুধু ফ্রান্স গোলকিপার। কিন্তু জ্যাকসনের নেওয়া কোনাকুনি শটে পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বল ফরাসি গোলকিপার মাইক মাইনঁর গায়ে গেলে কর্নার লাইন অতিক্রম করে। আর সেনেগাল শিবিরে জমা হয় একরাশ আফসোস।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে সেই আফসোসের পরিমাণ আরও বাড়ান ইসমাইলা সার। যেভাবে সুযোগ মিস করেছেন, সেটা নিশ্চিতভাবেই অনেকদিন পোড়াবে সেনেগাল রাইট উইঙ্গারকে। বাঁপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পাস দিয়েছিলেন সাদিও মানে। সেটা অনেকটা ফাঁকায় পেয়েছিলেন ইসমাইলা সার। সামনে ফরাসি গোলকিপারও ঠিকঠাক জায়গায় ছিলেন না। সারের কাজ ছিল শুধু বলটা ঠেলে দিয়ে জালে পাঠানো। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে পোস্টের অনেকটা ওপর দিয়ে মারেন সার। এতে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

৫৮ মিনিটে আবারও সেনেগালের ত্রাণকর্তা রূপে হাজির হন মেন্দি। এবার বাঁপ্রান্ত দিয়ে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে শট নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। সেটাও দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন সেনেগাল গোলকিপার।

পরের মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আবারও আক্রমণে ঢুকে পড়েন ফরাসি তারকা। তাঁকে বক্সের ভেতর ফেলে দেন সাদিও মানে। ফ্রান্স পেনাল্টির আবেদন জানায়। ভিএআর যাচাই করে খেলা চালিয়ে যান রেফারি। ৬৪ মিনিটে আরেকদফা সহজ সুযোগ মিস করেন এমবাপ্পে।

তবে এমবাপ্পের কল্যাণেই ডেডলক ভাঙে ফ্রান্স। ৬৬ মিনিটে ওলিসের দারুণ এক থ্রু পাসে কোনাকুনি শটে জালে বল জড়ান এমবাপ্পে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। দু মিনিট যেতে না যেতেই জালে বল জড়িয়েছিল সেনেগালও। তবে ইসমাইলা সারের গোলটি বৈধতা পায়নি অফসাইডে।

৮০ মিনিটে ডেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুমিনিট পরেই স্কোরশিটে নাম লেখান বারকোলা। যোগ করা সময়ে এমবায়ে একটি গোল ফেরত দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দিয়েছিল। তবে শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় ও ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।

বর্তমানে এই তালিকার শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা, যার গোল ১৬টি। আর ১৪ গোল নিয়ে ক্লোসার ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন এমবাপে। মাত্র কয়েক গোল দূরেই নতুন ইতিহাসের হাতছানি।

ক্যাটাগরি