স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকদের ওপর জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, আহত অর্ধশত।

রাজধানীর প্রেসক্লাব এলাকায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বুধবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টার পর শিক্ষকরা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত কয়েকজন শিক্ষক জানান, তারা ১৭ দিন ধরে প্রেস ক্লাবের সামনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট করছিলেন। বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক আহত হন।
পুলিশ জানায়, প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থান নিয়ে তাঁরা ভুখামিছিল করছিলেন। কিছুক্ষণ পর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে থেকে সচিবালয়ের দিকে রওনা দেন তাঁরা। এ সময় পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। তাঁদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরা সেটি না মেনে জোর করেই সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তারা পুলশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে। তখনই পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসে। আহতেরা জরুরী বিভাগের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয়করণের দাবিতে টানা ১৭তম দিনে আন্দোলনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে প্রেস ক্লাবের সামনে তাঁবু টানিয়ে আন্দোলন করছিলেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা।
ইবতেদায়ি শিক্ষকরা ৬ দাবিতে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
দাবিগুলো হলো—স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নিবন্ধন স্থগিতাদেশ ২০০৮ প্রত্যাহার করা; রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত কোডবিহীন মাদরাসাগুলো বোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা; স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করা।
এ ছাড়া পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা, নীতিমালা-২০২৫ অনুমোদন দেওয়া; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অফিস সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি খোলা অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া।



