প্রবাস

মালদ্বীপে ১৮০ দিনে বাংলাদেশিদের ৪৬ হাজারের বেশি সেবা

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার ও শ্রম-কল্যাণ সেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, শিক্ষা ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

মালদ্বীপে নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ৪৬ হাজার ২৬৩টি কনস্যুলার ও শ্রম-কল্যাণ সেবা দেওয়ার দাবি করেছে দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন। একই সময়ে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ৫৫০টির বেশি কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে মিশনটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানী মালেতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সংলাপ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গত ১৮০ দিনের কার্যক্রমের এ চিত্র তুলে ধরা হয়। ‘সেবা, সম্পৃক্ততা, সংলাপ—আপনার কথা, আগামীর পথ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও মতামত শোনা হয়।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ হাইকমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সব সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। হাইকমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটেও ড. মো. নাজমুল ইসলামকে বর্তমান হাইকমিশনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮০ দিনে কনস্যুলার শাখা ৩৪ হাজার ৪৩০টি এবং শ্রম ও কল্যাণ শাখা ১১ হাজার ৮৩৩টি সেবা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সেবার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ২৬৩টি।

এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৮৪টি পাসপোর্ট আবেদন ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম, ৩ হাজার ৫৯৪টি নতুন পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ, ১৭৫টি হারানো পাসপোর্ট-সংক্রান্ত উদ্যোগ এবং ৩৩৩টি ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, নথি সত্যায়ন ও প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজও করেছে হাইকমিশন।

শ্রম ও কল্যাণ শাখার দেওয়া সেবার মধ্যে রয়েছে ৪২৫টি স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আউটপাস, ১৫৫টি ডিটেনশন আউটপাস, ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের (ডব্লিউইডব্লিউবি) ১৯২টি কার্ড এবং ৯৯৪টি ভিসা সত্যায়ন। এ সময়ে ৪২ জন মৃত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠাতেও সহায়তা করা হয়েছে।

মালদ্বীপে বাংলাদেশি পেশাজীবী ও কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। চিকিৎসক, নার্স, থেরাপিস্ট, শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাইকমিশনের হিসাবে, শতাধিক বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী, ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষক এবং প্রায় ১০ হাজার সাধারণ ও অর্ধদক্ষ কর্মীর সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে মালদ্বীপের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগদাতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।

রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে মালদ্বীপ মুদ্রা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে হাইকমিশন। মালদ্বীপে একটি বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

হাইকমিশনের দাবি, গত ১৮০ দিনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম, বাণিজ্য, জলবায়ু, নীল অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫৫০টির বেশি কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ৭০টির বেশি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ৩০টির বেশি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং শতাধিক সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ রয়েছে।

শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ জন মালদ্বীপের শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে সহায়তা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা, বৃত্তি, গবেষণা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় নিয়েও কাজ চলছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে ২০টির বেশি বৈঠক হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক ও বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আগামী দিনে দ্বীপভিত্তিক কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণ, প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স চ্যানেল শক্তিশালী করা এবং দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে হাইকমিশন।

একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, জলবায়ু ও নীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে মিশনটি।

 

ক্যাটাগরি