অর্থনীতি

অফশোরের অর্থে ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং ব্যবসা খাতে অর্থের জোগান বাড়াতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলো তাদের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর করে স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ব্যক্তি ও প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রায় রাখা আমানতের অর্থ দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর করা যাবে। ওই অর্থের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত রেখে দেশীয় কোম্পানি ও উদ্যোক্তাদের স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া একই অর্থ থেকে দেশের ব্যক্তি, প্রবাসী, প্রবাসী উদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের মালিকানাধীন কোম্পানিকে স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন করা যাবে। ভোক্তা ঋণ খাতেও এ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বৈদেশিক মুদ্রার আমানত বেড়েছে। ফলে এসব ইউনিটে তুলনামূলক বেশি অর্থ জমা থাকলেও তা সবসময় ঋণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ওই অর্থ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন খাতে অর্থায়নে ব্যবহার করা যাবে।

এতে একদিকে ব্যাংকগুলোর অলস বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে ঋণ বিতরণে সমস্যায় রয়েছে, তাদের অর্থের জোগানও কিছুটা বাড়তে পারে।

প্রবাসীদের আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা দিতে হয়। এসব অর্থ অলস পড়ে থাকলে ব্যাংকের আয় না হলেও আমানতকারীদের মুনাফা পরিশোধ করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় ওই অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণ করে ব্যাংক আয় করতে পারবে। ফলে আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা ও ভোক্তা খাতে স্বল্পমেয়াদি অর্থের জোগান বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ

ক্যাটাগরি