ফিফা বিশ্বকাপ

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহাযুদ্ধ, মেসি-কেইনের লড়াইয়ে ফাইনালের স্বপ্ন

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। এবার দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট নির্ধারণে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তার সঙ্গে থাকবেন জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও অ্যান্থনি গর্ডনের মতো তারকারা।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৬৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে এই লড়াই বরাবরই আবেগ ও নাটকীয়তায় ভরপুর।

১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে তারা। অন্যদিকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এখন পর্যন্ত অপরাজিত আর্জেন্টিনা সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে খেলবে।

এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির জন্যও বিশেষ। ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন। ফলে মেসির পারফরম্যান্সও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারানোর পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেছিলেন, “এটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, দুই দলের ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ আমাদের সামনে।”

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মেসির সৃজনশীলতা, নাকি কেইনের গোল করার দক্ষতা—শেষ পর্যন্ত কারা স্পেনের প্রতিপক্ষ হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেবে, সেটিই এখন কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষার বিষয়।

ক্যাটাগরি