আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিরক্ত হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হব’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ফাইল ছবি

মার্কিন ভোটাররা তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে গেলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রসিকতার ছলে দেওয়া এ মন্তব্যের পাশাপাশি ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলে আমার জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি আমার ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে আমি ইসরায়েলে চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব।’

ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের এমন দাবি অবশ্য নতুন নয়। গত মে মাসেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সে সময়ও ইসরায়েলিদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

একই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েল এখন অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং দেশটির আর এ সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার বিষয়টি সামনে এনে কিছু ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থী রাজনীতিক রিপাবলিকানদের সমালোচনা করছেন। এ কারণে সহায়তা বন্ধের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি নিরাপত্তা সহায়তা চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত বছরে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ চুক্তির বাইরে গিয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের এ মন্তব্য এসেছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নির্বাচনে লড়ছে রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা।

নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তার প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: ফক্স নিউজ, এপি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

ক্যাটাগরি