হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজ দুটি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত পথ ব্যবহার করেনি। তারা অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত করলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
তবে বিস্ফোরণের শিকার জাহাজ দুটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী এবং এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইরানের এই দাবির সত্যতাও তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। দেশটি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের নির্ধারিত পথ ব্যবহার করার নির্দেশ দিচ্ছে। অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই নৌপথে জাহাজে মাইন হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। গত শুক্রবার ওমানের মুসান্দাম উপকূলে হরমুজ প্রণালির কাছে হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করে ওমানের নৌবাহিনী।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইন বিস্ফোরণে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ দিকের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে জানায় তারা।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল জাহাজগুলো।
একের পর এক বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এই নৌপথে অস্থিরতার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রবাণিজ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



