সারাদেশ

পরকীয়া জেনে যাওয়ায় স্ত্রী হত্যা, ১৬ বছর পর সাবেক এলজিইডি প্রকৌশলীর যাবজ্জীবন

পরকীয়ার বিষয়টি জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ বছর পর মামলাটির রায় হলো।

রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যেভাবে হত্যা করা হয়

মামলার নথি ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের সদর রোডের হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে যান জহিরুল ইসলাম।

সেখানে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে শোভাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিনই নিহতের বোন নিলুফা আইরিন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করা হয়।

পুলিশ তদন্ত শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়।

হত্যার কারণ কী

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, নিহত শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি শোভা জেনে যাওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় জহিরুল ইসলাম বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

অন্যদিকে, হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে হোটেল পরিচালনায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান।

ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/বি ইউ

ক্যাটাগরি