শেয়ার বাজার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় র‍্যানকন মোটরবাইকস

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সুজুকি মোটরসাইকেলের প্রস্তুতকারক ও একমাত্র অনুমোদিত পরিবেশক র‍্যানকন মোটরবাইকস লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটির সঙ্গে লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরি লিমিটেড ও সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের একটি চুক্তি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) র‍্যানকন মোটরবাইকসের সঙ্গে লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরি ও সিবিসি ক্যাপিটালের এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরি র‍্যানকন মোটরবাইকসকে করপোরেট ও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত পরামর্শসেবা দেবে। অন্যদিকে, সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট প্রস্তাবিত তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ার ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

অনুষ্ঠানে র‍্যানকন মোটরবাইকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী এবং লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরির নির্বাহী পরিচালক এরশাদ হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে র‍্যানকন মোটরবাইকসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আহসান হাকিম, ফারহানা করিম, ইমরান জামান খান ও আবু জাফর সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরির পক্ষে আবদুল্লাহ আল ফয়সালসহ অন্য কর্মকর্তারা এবং সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের পক্ষে রবিউল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির বিষয়ে লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরির নির্বাহী পরিচালক এরশাদ হোসেন বলেন, র‍্যানকন মোটরবাইকস একটি ভালো কোম্পানি এবং এ ধরনের কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসা উচিত।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেল শিল্পের প্রবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে আগ্রহ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সরাসরি তালিকাভুক্তি বা ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’ সংক্রান্ত বিধিমালার জন্য অপেক্ষা করছেন বলেও জানান তিনি।

প্রস্তাবিত তালিকাভুক্তিকে র‍্যানকন মোটরবাইকসের পুঁজিবাজারে প্রবেশ এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশে মোটরসাইকেলের বাজারে পুনরুদ্ধার

তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই বছর বিক্রি কমার পর ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বার্ষিক বিক্রি বেড়ে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫৮ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৩০ ইউনিট। ফলে এক বছরে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

এর আগে ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে মোটরসাইকেলের চাহিদা কমে যায়। ওই বছর বিক্রি প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছিল।

তবে ২০২৫ সালে বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও ২০২২ সালের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড এখনও অতিক্রম করতে পারেনি। ওই বছর দেশে মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৪৭৯ ইউনিট।

বাজার পুনরুদ্ধারের সময়ে জাপানি ব্র্যান্ডগুলোও উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে ৯৩ হাজার ৮৩৮ ইউনিট বিক্রি এবং ২০ দশমিক ১ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে সুজুকি শীর্ষে ছিল। এরপর ইয়ামাহার বাজার হিস্যা ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং হোন্ডার ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

 

ক্যাটাগরি