যৌবনকে অপচয় নয়, সৎকর্ম ও আত্মগঠনে কাজে লাগানোর আহ্বান

যৌবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে কর্মচঞ্চল ও সম্ভাবনাময় সময়। এ সময়ে পরিশ্রম, জ্ঞানার্জন, আত্মগঠন ও সৎকর্মের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর করার আহ্বান জানানো হয়েছে ইসলামে। তাই যৌবনকে অর্থহীন বিনোদন, সময়ের অপচয় ও বিপথগামিতায় নষ্ট না করে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ কোনো নবীকে পাঠাননি, তিনি যুবক থাকা অবস্থায় ছাড়া। ইসলামের সূচনালগ্নেও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে বহু তরুণ সাহাবি দাওয়াতের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং নানা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন।
নবী করিম (সা.) যৌবনকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে বলেছেন। হাদিসে এসেছে, বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে গনিমত হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। অর্থাৎ জীবনের এই সময়টি এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে এর সুফল পাওয়া যায়।
তবে বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণীর মধ্যে সময়ের অপচয়, অনিয়ন্ত্রিত বিনোদন, মাদক, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক জীবনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অনেকের কাছে দামি পোশাক, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য, বাহ্যিক চাকচিক্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনই জীবনের বড় লক্ষ্য হয়ে উঠছে।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে এসবের পরিবর্তে জ্ঞানার্জন, নৈতিক চরিত্র গঠন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে প্রকৃত সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।
বিশেষভাবে তরুণদের নামাজ ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মা-বাবার প্রতি সম্মান ও সদাচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের ত্যাগ ও পরিশ্রমের কথা স্মরণ করে তাঁদের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং তাঁদের জন্য স্বস্তির কারণ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তরুণদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবেশ বাছাইয়ের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। ভালো বন্ধু ও ইতিবাচক পরিবেশ মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে, বিপরীতে খারাপ সঙ্গ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
বার্তা দেওয়া হয়েছে, বর্তমান সময় নানা ধরনের প্রলোভন ও পরীক্ষায় পরিপূর্ণ হলেও আত্মসংযম, সৎ সঙ্গ এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। যৌবনের শক্তি ও সময়কে সঠিক কাজে ব্যবহার করলেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ



