সাবমেরিন / সামরিক ডুবোযান ব্যবহারের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

আমরা জাতিসংঘকে জানাতে চাই যে সাবমেরিন বা সামরিক ডুবোযান মানব জীবনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।রাশিয়ার কুরাস্ক সাবমেরিন (K-141 Kursk) ১২ অগাস্ট ২০০০ তারিখে বারেন্টস সি-এ ডুবে যায়, যেখানে ১২১ জন নাবিক নিহত হন। আর্জেন্টিনার ARA San Juan সাবমেরিন ১৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে দক্ষিণ আটলান্টিক সাগরে নিখোঁজ হয়, যার ফলে ৪৫ জন নাবিকের প্রাণহানি ঘটে।
উভয় ঘটনাতেই নাবিকরা কোনো যুদ্ধের অংশ ছিলেন না। তারা অসুস্থও ছিলেন না এবং কোনো আঘাতও পাননি। তবু উদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সাবমেরিনের সঠিক অবস্থানও অজানা থাকে।
১. সাবমেরিন দুর্ঘটনা এবং সমুদ্রের তলদেশের প্রভাব:
সাবমেরিন ডুবে গেলে, এটি বড় কোনো স্থায়ী বস্তু হয়ে যায়। সমুদ্রের তলদেশে এই বস্তু পানির স্রোত, বালি বা কাদা জমার ধারা পরিবর্তন করতে পারে। ধীরে ধীরে, সাবমেরিনের চারপাশে বালি বা কাদা জমে নতুন অবস্তু তৈরি হতে পারে, যা কৃত্রিমভাবে ছোট দ্বীপ বা উঁচু স্থান হিসেবে কাজ করতে পারে।
২. পরিবেশগত প্রভাব:
সমুদ্রের নাব্যতা ও জাহাজ চলাচল : সাবমেরিন বা অনুরূপ ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের তলদেশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
জাহাজ চলাচল ও সমুদ্রপথে নাব্যতা সংকট দেখা দিতে পারে। সাগরের বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব হঠাৎ ধ্বংসাবশেষের চারপাশে বালি জমে নতুন টেরিফর্ম তৈরি হলে সীফ্লোর বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তন ঘটতে পারে। এটি মাছ, শামুক বা সাগরের অন্যান্য প্রাণীর জীবনচক্রে ব্যাঘাত আনতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি সাবমেরিনে তেল, পারমাণবিক উপাদান বা অন্যান্য রাসায়নিক থাকলে তা স্ফটিক বা বালির মধ্যে আটকে দূষণ সৃষ্টি করতে পারে।
সমুদ্রের ধারা ও জলস্তরের রূপ পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
৩. বিজ্ঞানসম্মত তুলনা:
মরুভূমিতে যেমন একটি বড় পাথর চারপাশে বালি জমে ছোট পাহাড় বা ঢিবি তৈরি করে, সমুদ্রেও ধ্বংসাবশেষ বা ডুবে যাওয়া সাবমেরিনের চারপাশে বালি জমে কৃত্রিম বাধা বা সমুদ্রের তলদেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তবে, সাবমেরিনের ফলে শুধু বালি জমা নয়, রাসায়নিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকিও সমুদ্রের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বৈপরীত্য হিসেবে, ভারতের পাইলট অভিনন্দন বার্তমান, যার বিমান পাকিস্তানের দ্বারা ভূপাতিত হয়েছিল, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে ধরা পড়েন এবং ১ মার্চ ২০১৯ তারিখে নিরাপদে ভারতে ফেরেন। এটি প্রমাণ করে যে বিমান ধ্বংস হলেও মানবিকভাবে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু সাবমেরিনে এমন মানবিক সুরক্ষা নেই।
অতএব, আমি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে, সাবমেরিন বা সামরিক ডুবোযান ব্যবহারের উপর আন্তর্জাতিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক, যাতে অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানি প্রতিরোধ করা যায় এবং মানবতার সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। আপনাদের সুদৃষ্টি ও মানবিক বিবেচনার জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ।
লেখক,সহকারী অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ
কালসার নাঈমা আলম মহিলা ডিগ্রি কলেজ।



