হোয়াইট হাউসে বড় রদবদল, নতুন চিফ অব স্টাফ হলেন স্টিফেন মিলার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবি এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী ও কট্টর অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ৪১ বছর বয়সী মিলার। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ নিয়োগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসকে তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।
সুজি ওয়াইলস বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের রায়ে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এই রদবদলকে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস যাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে মিলারকে চিফ অব স্টাফ নিয়োগের মধ্য দিয়ে নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের পরিবর্তে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন দায়িত্বে মিলার প্রশাসনের নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারাও এ নিয়োগের সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস মিলারকে ‘বেপরোয়া চরমপন্থি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেছেন, মিলারের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি নিয়ে তদন্ত করা হবে। এ জন্য তাঁর এখন থেকেই আইনজীবী নিয়োগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কে এই স্টিফেন মিলার?
স্টিফেন মিলার ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে বক্তৃতা লেখক হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মিলারের। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পেছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল। অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
এ ছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পুনর্গঠন এবং হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা ছাঁটাইয়ের উদ্যোগেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপেরও সমর্থক তিনি।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এতদিন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মিলার। তবে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে তাঁর প্রভাব ছিল ব্যাপক।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগ?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন নীতি, সরকারি ব্যয়, প্রশাসনিক পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত ও জবাবদিহির মুখে পড়তে পারে হোয়াইট হাউস।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও কঠোর অবস্থানের সমর্থক মিলারকে প্রশাসনের শীর্ষ সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মসূচি পরিচালনা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় এবং কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে নতুন দায়িত্বে মিলারের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুজি ওয়াইলসের বিদায় এবং স্টিফেন মিলারের পদোন্নতি ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ওয়াশিংটনে প্রশাসন ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।
ফিনান্সিয়াল বার্তা/বি ইউ



