রাজনীতি

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ,বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। এতে ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের।

নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। তবে অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় নিজে ভোট দিতে পারবেন না। অন্যদিকে সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দিতে পারবেন মির্জা ফখরুল।

সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। এরপর প্রতিবার ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে মির্জা ফখরুলের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে এবং মন্ত্রিত্ব থেকেও পদত্যাগ করতে হবে।

সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার ৩৪৯ জন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। বিএনপি জোটের প্রায় ২৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। দলীয় এমপি না হওয়ায় আট স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য যেকোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ কক্ষেই ভোটগ্রহণ হবে এবং চারটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। ভোটারদের ব্যালটে নিজের নাম ও পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে ভোট দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ভোট শুরুর পাঁচ মিনিট আগে এবং ভোট শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে লাইভ সম্প্রচার করা হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রার্থী মির্জা ফখরুলের ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানো হবে। নির্বাচনের ফলও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে থাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি কাকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয়। পরে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে প্রচলিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট হাইকোর্টে খারিজ হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন স্থগিতের আবেদনও খারিজ করা হয়। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন।

নির্বাচন শেষ হলে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

ফিনান্সিয়াল বার্তা/এইচ

ক্যাটাগরি