লাইফস্টাইল

কোলন সুস্থ রাখতে প্রতিদিন যেসব ৬ খাবার খাবেন

ছবি: সংগৃহীত

কোলন বা বৃহদান্ত্র আমাদের পরিপাকতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাবার হজমের পর অবশিষ্ট অংশ থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ শোষণ এবং মল তৈরি ও নিষ্কাশনে কোলন ভূমিকা রাখে। তাই সুস্থ থাকতে কোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা জরুরি।

অনেকের ধারণা, কোলনের দেয়ালে বিষাক্ত পদার্থ জমে থাকে এবং তা দূর করতে নিয়মিত বিশেষ পদ্ধতিতে কোলন পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধারণার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সুস্থ শরীরের পরিপাকতন্ত্র স্বাভাবিকভাবেই মল ও বর্জ্য নিষ্কাশন করে। এ জন্য আলাদা করে কোলন পরিষ্কারের প্রয়োজন হয় না।

বরং সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে কোলনের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। জেনে নেওয়া যাক কোলন সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১. ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল খান

কোলনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় আঁশ বা ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। ফাইবার মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা, কমলা, রাস্পবেরি ও শুকনো বরই ভালো আঁশের উৎস। এ ছাড়া ব্রকলি, পালংশাক, মটরশুঁটি, গাজর ও অন্যান্য শাকসবজি নিয়মিত খেতে পারেন।

ফল ও সবজি কাঁচা, রান্না করে কিংবা স্মুদি হিসেবে খাওয়া যায়। তবে ফলের রসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ এতে আঁশ অক্ষুণ্ন থাকে।

২. খাদ্যতালিকায় ত্রিফলা রাখার আগে সতর্ক থাকুন

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহেরা, হরিতকী ও আমলকীর সমন্বয়ে তৈরি ত্রিফলার ব্যবহার রয়েছে। অনেকে হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এটি ব্যবহার করেন।

তবে ত্রিফলা কোলনের দেয়ালে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে—এমন দাবির পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এর ব্যবহার কারও কারও ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ত্রিফলা বা অন্য কোনো ভেষজ উপাদান গ্রহণ করা উচিত নয়।

৩. অতিরিক্ত লবণপানি পান করা এড়িয়ে চলুন

কিছু প্রচলিত পদ্ধতিতে কোলন পরিষ্কারের জন্য লবণ মেশানো পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি নিরাপদ নয়।

অতিরিক্ত লবণ শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বমি, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তাই কোলন পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত লবণপানি পান করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. নিয়মিত আপেল খান

আপেল ফাইবারের ভালো উৎস। বিশেষ করে আপেলের খোসায় থাকা আঁশ হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি মাঝারি আকারের আপেল রাখতে পারেন। আপেল ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ খেলে বেশি আঁশ পাওয়া যায়।

তবে আপেলের রসের পরিবর্তে গোটা আপেল খাওয়াই ভালো। কারণ রস তৈরির সময় বেশির ভাগ আঁশ বাদ পড়ে যায়।

৫. আপেলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল বেছে নিন

আপেলের রসে কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকলেও এতে গোটা আপেলের তুলনায় কম আঁশ থাকে। অতিরিক্ত ফলের রস পান করলে শরীরে চিনির পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে।

তাই কোলনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিন কয়েক গ্লাস আপেলের রস পান করার প্রয়োজন নেই। বরং গোটা ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

কোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি মল নরম রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়।

দিনজুড়ে নিয়মিত পানি পান করুন। শরীরের প্রয়োজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর পানির চাহিদা নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ পানি নির্ধারণ করা যায় না।

চাইলে সকালে এক গ্লাস সাধারণ বা হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস করতে পারেন। তবে পানিতে লেবু বা মধু মেশালে কোলন বিশেষভাবে পরিষ্কার হয়—এমন প্রমাণ নেই।

কোলন সুস্থ রাখতে আরও যা করবেন

  • প্রতিদিন নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটাহাঁটি করুন।
  • খাদ্যতালিকায় ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়ান।
  • মলত্যাগের স্বাভাবিক বেগ চেপে রাখবেন না।
  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
  • নিয়মিত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এসব লক্ষণকে শুধু কোলনে বিষাক্ত পদার্থ জমার সমস্যা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।

কোলন সুস্থ রাখতে বিশেষ কোনো ডিটক্স বা পরিষ্কারক পদ্ধতির চেয়ে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড

ক্যাটাগরি