লাইফস্টাইল

হার্ট ভালো রাখতে যেসব খাবার কম খাবেন

ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়। হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের আগে দুর্বল লাগা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিকভাবে ঘাম হওয়ার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পারিবারিক ইতিহাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসসহ বিভিন্ন কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

হার্ট ভালো রাখতে যেসব খাবারে নিয়ন্ত্রণ জরুরি

রেড মিট: গরু, খাসি ও অন্যান্য রেড মিটে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। অতিরিক্ত রেড মিট খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এসব খাবার পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

লবণ ও চিনি: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রায়ই লবণ ও চিনি বেশি থাকে। এসব খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের দিকে নজর দেওয়া ভালো।

কোমল পানীয়: কোমল পানীয়তে সাধারণত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ যোগ করা চিনি থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত কোমল পানীয় পান করলে বাড়তি ক্যালোরি গ্রহণ ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এর পরিবর্তে পানি বা চিনি ছাড়া স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে।

ভাত, রুটি ও পাস্তা: ভাত, রুটি ও পাস্তা কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হতে পারে। তাই এসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

চানাচুর, বিস্কুট ও চিপস: নিয়মিত চানাচুর, বিস্কুট, ঝুরিভাজা ও চিপস খেলে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, চর্বি ও ক্যালোরি গ্রহণ হতে পারে। তাই এসব প্রক্রিয়াজাত নাস্তার পরিবর্তে ফল, বাদাম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে।

খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনেও নজর

হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু কিছু খাবার বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র বা নতুন ধরনের বুকে ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।

ক্যাটাগরি