ধর্ম

সুখী দাম্পত্য জীবনে ইসলামের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

প্রতীকী ছবি

বিবাহ মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি শুধু সামাজিক বা পারিবারিক চুক্তি নয়; বরং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, দয়া, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক শান্তির একটি পবিত্র বন্ধন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করে এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেন। (সূরা আর-রূম: ২১)

একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে ইসলামে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১. ঈমান ও তাকওয়ার ভিত্তি গড়ে তোলা

দাম্পত্য জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আল্লাহভীতি বা তাকওয়া। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে আল্লাহর প্রতি দায়িত্বশীল থাকলে পরস্পরের অধিকার নষ্ট করা ও জুলুম থেকে বিরত থাকা সহজ হয়। পাশাপাশি একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদত পারিবারিক জীবনে প্রশান্তি আনতে পারে।

২. অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা

ইসলাম স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্য দায়িত্ব ও অধিকার নির্ধারণ করেছে। স্বামীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে মোহর আদায়, সামর্থ্য অনুযায়ী ভরণপোষণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং স্ত্রীর সঙ্গে সদয় আচরণ। অন্যদিকে স্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে স্বামীর বৈধ বিষয়ে সহযোগিতা করা, পরিবারের সম্পদ ও আমানত রক্ষা এবং নিজের মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখা।

৩. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) দাম্পত্য জীবনে ভালো আচরণ ও সহমর্মিতার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ তাই স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরকে সময় দেওয়া, আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং প্রয়োজনে ঘরের কাজেও সহযোগিতা করা।

৪. ক্ষমাশীলতা ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রাখা

দাম্পত্য জীবনে মতপার্থক্য ও ভুল-ত্রুটি স্বাভাবিক। তাই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিরোধ না বাড়িয়ে একে অপরের ভালো দিকগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাগের সময় সংযত থাকা, কিছুক্ষণ নীরব থাকা কিংবা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ দেওয়া দাম্পত্য কলহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৫. পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা

স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ না করার ব্যাপারে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। নিজেদের মধ্যকার সমস্যা বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের কাছে অপ্রয়োজনে প্রকাশ না করে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

৬. ভালো কথা ও প্রশংসার চর্চা করা

মিষ্টি কথা, হাসিমুখে আচরণ এবং পরস্পরের কাজের প্রশংসা দাম্পত্য সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। জীবনসঙ্গীর পরিশ্রম ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ভালোবাসা বাড়াতে সহায়ক। উপহার দেওয়ার মাধ্যমেও পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি করা যায়।

৭. দোয়া ও ইস্তিগফার করা

সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করা উচিত। সূরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতে মুমিনদের একটি সুন্দর দোয়া শেখানো হয়েছে—‘হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় এবং আমাদের মুত্তাকিদের ইমাম বানিয়ে দিন।’

সবশেষে বলা যায়, একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য শুধু অধিকার দাবি নয়, বরং নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাও জরুরি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি দাম্পত্য জীবনে শান্তি ও স্থিতি আনতে পারে। তাই ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণ করে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই সুন্দর ও সহমর্মিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত।

লেখক: আলেম, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

ফিনান্সিয়াল বার্তা/এইচ

ক্যাটাগরি