চ্যাটজিপিটির আগেই গুগলের ছিল এআই চ্যাটবট, প্রকাশ না করার দাবি সাবেক কর্মীর

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার প্রায় এক বছর আগেই গুগল একই ধরনের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট তৈরি করেছিল, তবে সেটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রকাশ করা হয়নি—এমন দাবি করেছেন গুগলের সাবেক কর্মী এবং বর্তমানে ওপেনএআইয়ের কর্মী থিবো (টিবো) সোতিও।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টের জবাবে সোতিও জানান, তিনি গুগলের ‘LMChat’ নামে একটি এআই প্রকল্পে কাজ করেছিলেন। তার দাবি, চ্যাটবটটি বর্তমান চ্যাটজিপিটির মতোই স্বাভাবিক ভাষায় প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম ছিল।
সোতিওর ভাষ্য অনুযায়ী, গুগলের আশঙ্কা ছিল, এমন একটি চ্যাটবট চালু করলে প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা গুগল সার্চের ব্যবহার কমে যেতে পারে। এ কারণেই প্রযুক্তিটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, গুগলের এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডকেও এমন কোনো পণ্য প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যা গুগলের মূল ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সাবেক এই কর্মীর দাবির বিষয়ে গুগল এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক জেনারেটিভ এআইয়ের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল গুগলের ২০১৭ সালের ‘Transformer’ গবেষণার মাধ্যমে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব চ্যাটবট প্রকাশে সতর্ক অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে ২০২২ সালের নভেম্বরে ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত করার পর বিশ্বজুড়ে এআই প্রতিযোগিতায় নতুন যুগের সূচনা হয়। পরে গুগল বার্ড নামে নিজস্ব চ্যাটবট চালু করে, যা বর্তমানে জেমিনি (Gemini) নামে পরিচিত।
এর আগে গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এবং ডিপমাইন্ডের প্রধান বিজ্ঞানী জেফ ডিন স্বীকার করেছিলেন যে, গুগলের কাছে একই ধরনের প্রযুক্তি ছিল। তবে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কারণে সেটি প্রকাশে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক ছিল।
সাবেক কর্মীর এই দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—গুগল যদি সময়মতো তাদের এআই চ্যাটবট উন্মুক্ত করত, তাহলে বর্তমান বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার চিত্র কি ভিন্ন হতে পারত?




