ধর্ম

নবীপ্রেমে ভারসাম্যের শিক্ষা, যা বলছে কোরআন-হাদিস

সংগৃহীত ছবি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এই ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমারেখা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমরা। তাদের মতে, নবীপ্রেম এমন পর্যায়ে পৌঁছানো যাবে না, যা ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করার আশঙ্কা তৈরি করে।

সহিহ বুখারির একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার মা-বাবা ও সন্তান-সন্ততি থেকে অধিক প্রিয় হই।” (হাদিস: ১৪)

আলেমরা বলেন, নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, আদেশ পালন, নিষেধ থেকে বিরত থাকা এবং বেশি বেশি দরুদ পাঠের মাধ্যমে হওয়া উচিত। পবিত্র কোরআনের সুরা ফাতহের ৮-৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের রাসুল (সা.)-এর প্রতি ঈমান, সহযোগিতা ও সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে কোরআনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে সফলতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সুরা নূরের ৫২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে, তারাই সফলকাম।

সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা প্রকাশের সঠিক পদ্ধতি হলো তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা। তবে নবীপ্রেমের নামে শরিয়তে ভিত্তিহীন কোনো আমল বা বিদআত গ্রহণযোগ্য নয়।

আলেমরা আরও বলেন, ইসলাম যেমন অতিরঞ্জিত নবীপ্রেমকে সমর্থন করে না, তেমনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি অবহেলা, অসম্মান বা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠে অনীহাকেও নিন্দা করে। সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নবীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত নবীপ্রেম হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা এবং তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রাখা।

ক্যাটাগরি