বান্দরবানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় ১৬ নারীকে ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ দিল সেনাবাহিনী

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৬ নারীকে তিন সপ্তাহব্যাপী ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবান সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
বান্দরবান সেনা রিজিয়নের অধীন বিভিন্ন পাড়া থেকে নির্বাচিত ১৬ জন উপজাতি ও বাঙালি নারী এ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে তাঁদের নিরাপদ প্রসব, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর পরিচর্যা, নবজাতকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবানের অনেক পাহাড়ি পাড়া দুর্গম হওয়ায় এসব এলাকায় নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন। অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, দীর্ঘ দূরত্ব এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের দ্রুত হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয় না।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন জটিলতা শনাক্তকরণ এবং নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে এসব সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারীরা নিজ নিজ এলাকায় গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রসবকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায়ও এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।
সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বান্দরবানের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।



