সুনামগঞ্জসহ ৬ জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ১২ জনের

দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রাঘাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় ৫ জন, রংপুরের মিঠাপুকুরে ২ জন এবং নেত্রকোণার আটপাড়ায় ১ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, হবিগঞ্জে ১ জন,কিশোরগঞ্জ ১ জন নিহত হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও দিরাই উপজেলায় পৃথক বজ্রাঘাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশার টগার হাওর সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে হবিবুর রহমান (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ওই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রাঘাতে রহমত উল্লাহ (১৩) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও দুজন আহত হয়েছেন।
দিরাই উপজেলা: দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর: জামালগঞ্জের জামলাবাজ গ্রামে হাঁসের খামারে কাজ করার সময় নূর মিয়া এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) বজ্রাঘাতে নিহত হন।
রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
কিশোরগঞ্জ: করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিক মারা গেছেন। করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল করিম বলেন, শনিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হেলাল মিয়া (৩৮) উপজেলার কলাবাতা গ্রামের বাসিন্দা।
নেত্রকোণা: নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার মেষির হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর রহমান বলেন, বজ্রাঘাতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এছাড়াও ময়মনসিংহে দুইজন ও হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।






