কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

কুমিল্লায় ভাড়া বাসা থেকে জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে (৫ মে) কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার কাশেম গার্ডেন নামের একটি ভবনের বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারিহা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের হানিফ মিয়ার মেয়ে। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয় (৩০) জেলার মেঘনা উপজেলা এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।
বুধবার ( ৬মে) ফারিহার মরদেহ উদ্ধারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। ভাইরাল ছবিটিতে দেখা যায়, বিছানার ওপর একটি চেয়ার। জান্নাতুন নাঈমের একটি পা বাঁকা অবস্থায় বিছানায় রয়েছে। আরেকটি পায়ের হাঁটু চেয়ারের মধ্যে। এমন অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে তার মরদেহ ঝুলছে। যাকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ নেটিজনরা।
ফারিহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয় আত্মগোপনে আছেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ৮ মাস আগে পারিবারিকভাবে হৃদয়ের সঙ্গে ফারিহার বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেহেদী বৃত্তি নিয়ে চীনে গেলেও সফল হতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর বেকারত্ব ও সাংসারিক ভরণপোষণ নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে কলহ শুরু হয়। গত সোমবার বাবার বাড়ি নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লায় স্বামীর বাসায় আসেন জান্নাতুন নাঈম। এক দিন পরই তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
নিহত ফারিহার বাবা স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েটাকে বিয়ে দিয়ে সুখ হলো না। প্রায়ই নির্যাতন করা হতো তাকে। হত্যা করে সেটাকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছে ওরা। আমি এর বিচার চাই।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।






