সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১২ নিহত, দুজন বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে গত শনিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার বিষয়ে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
হুতিদের হামলার দায় স্বীকার
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের জবাব দিতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
আল-বুখাইতির অভিযোগ, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই হুতিরা রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, হাসপাতাল, বাজার এবং বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হলের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা সেগুলোর ক্ষতি করা উচিত নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে হুতিদের এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ইয়েমেনে সৌদি হামলা, বাড়ছে সংঘাত
হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান। হুতি গোষ্ঠীর দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। এসব হামলায় শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক পশ্চিমা দূতাবাস
হামলার পর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের ইঙ্গিত
হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে তাঁরা মাত্রই জানতে পেরেছেন।
সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে ‘একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এর আগে গত বছর হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দ্রুত বিজয়ের ঘোষণা দিলেও প্রথম মাসেই মার্কিন বাহিনী প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদির অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় প্রভাবের আশঙ্কা
রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে রাজধানীর বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তাঁর এ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও হামলার কারণে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।



