বাইন্যান্সে বড় ধরনের হ্যাকিং, ৬৩০ কোটি ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হতে পারে।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ উদ্ধারে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে তারা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ শনাক্ত হয়েছে। বাকি অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে ক্ষতির সম্পূর্ণ দায় প্রতিষ্ঠানটি বহন করবে বলে জানিয়েছেন সহপ্রতিষ্ঠাতা ই হে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বাইন্যান্সের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে এ ঘটনার সূত্রপাত। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ব্যবহারকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে বলে দাবি করেছে বাইন্যান্স।
এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো বাজারে। শুক্রবার বিটকয়েনের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে নেমে আসে। ইথারের দামও ৩ শতাংশের বেশি কমে ২ হাজার ১৭৮ ডলারে পৌঁছায়। বাইন্যান্সের নিজস্ব টোকেন বিএনবির দাম কমেছে ৫ শতাংশ।
এদিকে অর্থ উদ্ধারে টেথার প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার, সার্কেল ৮০ কোটি ডলারের বেশি এবং রিপল প্রায় ২০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছেন ই হে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের নিরাপত্তা, আর্থিক সক্ষমতা ও তারল্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বাইন্যান্সের বিশ্বজুড়ে নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৩৩ কোটি ৫০ লাখ। ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির হেফাজতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার।
তবে বাইন্যান্সের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পৃথক প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স ইউএস জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার শিকার হয়নি। কয়েনবেসও তাদের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে।



