আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আকুর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি দায় মেটাতে বাংলাদেশ ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। এতে একদিনে রিজার্ভ কমেছে ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন বুধবার দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। আকুর বিল পরিশোধের পর তা কমে ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও কমেছে। এ পদ্ধতিতে বুধবার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। আকুর বিল পরিশোধের পর তা কমে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
আকু একটি আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি সংস্থা। ইরানের রাজধানী তেহরানভিত্তিক এ সংস্থার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এর সদস্য।
আকু ব্যবস্থায় বাংলাদেশ প্রতি দুই মাস পরপর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি বিল নিষ্পত্তি করে। ফলে বিল পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাময়িক বড় ধরনের পতন দেখা যায়।
এদিকে আমদানি বিল পরিশোধের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রিও করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিলামের মাধ্যমে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত টানা তিন বছর বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকা রিজার্ভ ২০২৪ সালে কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
২০২৪ সালের আগস্টে গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার নীতি গ্রহণের কথা জানান। পরবর্তী সময়ে একই নীতি বজায় রাখা হয়। এতে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করে। ওই বছরের ২৯ জুন রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। পরে ১ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।



