ফিফা বিশ্বকাপ

এমবাপ্পেদের থামিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

স্পেনকে শুরুতে লিড এনে দেওয়া ওয়ারসাবালের উদযাপন। ছবি: এনবিসি নিউজ

বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্সকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে লা রোজা ২-০ গোলে হারিয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের দলকে। ম্যাচজুড়ে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ, কার্যকর কৌশল ও সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহারই গড়ে দিয়েছে জয়ের ভিত্তি।

এর মাধ্যমে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল তারা। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী।

ম্যাচের ২২ মিনিটে লামিন ইয়ামালকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ফ্রান্সের লুকাস দিনিয়ে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পেনের স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়ারসাবাল স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে দেন। ১-০ ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষ করার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাইট ব্যাক পেদ্রো পোরো। দানি অলমোর নিখুঁত পাস থেকে গোল করে স্পেনকে স্বস্তি এনে দেন তিনি।

হারের হতাশায় এভাবে মুচড়ে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: এপি

দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের আক্রমণভাগ স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স গোলের লক্ষ্যে মাত্র চারটি শট নিতে পারে, যার মধ্যে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে মাত্র দুটি।

অন্যদিকে স্পেন বল দখল ও আক্রমণে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে। দুই গোলের লিড পাওয়ার পর ছোট পাস, ধীরগতির বিল্ডআপ এবং প্রয়োজনমতো ব্যাক পাসের মাধ্যমে তারা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ফ্রান্স কখনোই নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ছন্দে ফিরতে পারেনি।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলী পরিকল্পনা, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ শেষ পর্যন্ত স্পেনকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। এখন শিরোপা জয়ের শেষ বাধা ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনা।

ক্যাটাগরি